সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
১৬ জুলাই ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় চলছে মাসব্যাপী নানান অনুষ্ঠানমালা। এরই অংশ হিসেবে আজ ১৬ জুলাই, বুধবার চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায় শুরু হয় “সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ড্রোন শোর’ বর্ণাঢ্য আয়োজন।
আজ ১৬ জুলাই ২০২৫। ২০২৪ এর জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলো, আমাদের লড়াই-গৌরব-বীরত্বের যে সংগ্রাম, সেই দুঃসাহসী লড়াই আর ত্যাগ-তিতিক্ষার পুনর্জাগরণের সম্মিলনের প্রয়াস। আজ চট্টগ্রামের জুলাই মঞ্চে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গান, শহীদ পরিবারের স্মৃতিচারণ, মারমা, চাকমা, বমসহ দেশসেরা ব্যান্ড ও শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় উচ্ছসিত হয় মাঠের দর্শক। ব্যান্ডদল ও শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম এলিটা করিম, পারসা মাহজাবীন, র্যাপার হান্নান, বে অব বেঙ্গল এবং শিরোনামহীন-এর পরিবেশনা উপভোগ করার জন্য কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠ। বিকাল ৪টা থেকে স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও যুবাদের শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ লাইন প্রত্যক্ষ করা গেছে।

অনুষ্ঠানে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে প্রথম বন্দুকের সামনে বুক পেতে দেওয়া শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ফয়সাল হোসেন শান্ত, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম, শহীদ মো: শাহজাহান মিয়া, শহীদ মো: ফারুকসহ ২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মফিদুর রহমান ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনসহ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম, একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও শহীদ পরিবারের মা-বাবা, পরিবার-পরিজনের সদস্যবৃন্দ।

সন্ধ্যা ৬:১৫ টায় “কথা ক” শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রদর্শিত পরপরই দেশাত্মবোধক সংগীত ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’ পরিবেশন করেন এসবি সুমি। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল মান্নান রানা এবং চট্টগ্রামে প্রথম ‘শহীদ ওয়াসীম’কে নিয়ে একটি দ্বৈতসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সৈয়দ জিয়াউদ্দিন এবং এসবি সুমি।
সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চে স্মৃতিচারণ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য শহীদ ফয়সাল হোসেন শান্ত এর মা, শহীদ ওমর ফারুক এর স্ত্রী সীমা আক্তার। তাঁরা কান্না জড়ানো কণ্ঠে তাদের সন্তান ও স্বামীর স্মৃতিগুলো বর্ণনা করেন। এরপর প্রদর্শিত হয় বুয়েটের শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র, শহীদ ওয়াসীম ওয়াকার-কে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ এবং জুলাই আন্দোলনে আহত সদস্যদের নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জুলাই বীরগাথা’।

রাত ৮ টায় মঞ্চে উঠেন ‘পারাবার শিল্পীগোষ্ঠী’। এরপর চট্টগ্রামের জনপ্রিয় গানগুলো ‘বাঁশখালি মহেষখালী’ ‘ও আঁরা চাঁটগাঁইয়া নওজোয়ান’ পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন ব্যান্ডদল রিদম এন্ড প্রীতম। এরপর এ সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পারসা মাহজাবীন ‘চলো ভুলে যাই’, ‘মুক্তির মন্দির’ ও ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ গান ৩টি পরিবেশন করেন এবং ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’, ‘পলাশীর প্রান্তর’, ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ও ‘ঘুরে দাঁড়াও’ গানসমূহ পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এলিটা করিম।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই শিল্পীবৃন্দ পরিবেশনার তালিকায় ছিলো ডিস নওয়ার র্যাপ সংগীত, ব্যান্ডদল চিম্বুক ‘যাযা নিরং থোওয়াক পা মেলে (কখন সূর্য উঠবে)’, ‘তাওয়াইং কোজি হিস্ফনিবাব্রি’ (আমাদের নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকবো), ‘কোরোকো উছং থাবো (নিজেদেরকে সামনে থেকে এগিয়ে নেয়ার জন্য)’, তংগো ফ্রোরো তংস্বারো (পাহাড় ডিঙিয়ে পাহাড়ীরা) এবং ‘রাত পোহালে চোখ মেলে দেখি তোমার’ গানসমূহ; বে অব বেঙ্গল পরিবেশন করেন ‘ওপারে’, ‘গন্ধ খুঁজে পাই’, ‘যে শহরে আমি নেই’, ‘জোসনা স্নান’, ‘বিদ্রোহ’ ও ধরিত্রীর মহানায়ক’ গানসমূহ।

জুলাই অভ্যুত্থান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী র্যাপার হান্নান ‘কথা ক’, ‘আই এইন্ট আ কিলার’, ‘রঘু চক্কর’ এবং ‘হুদাই হতাশে’ গানসমূহ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শেষ পর্যায়ে ব্যান্ড দল শিরোনামহীন ‘বন্ধ জানালা’, ‘পাখি’, ‘বোহেমিয়ান’, ‘কান্ডারী হুশিয়ার’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘বারুদ সমুদ্র’ গানসমূহ পরিবেশন করবে বলে জানা গেছে।
সবশেষে রাত ১১টায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শুরু হবে মিউজিক্যাল ‘ড্রোন শো’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং চীন সরকার কর্তৃক যৌথভাবে এই ‘ড্রোন শো’-তে ২০০০ ড্রোন উড্ডয়নের মাধ্যমে জুলাইয়ের গল্প তুলে ধরা হবে। জুলাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ছাত্র-জনতা স্রোতের মতো বেরিয়ে এসে আন্দোলনে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। সেই জীবন্ত মুহূর্ত ও স্লোগান এবং গ্রাফিতিসমূহ প্রদর্শন করা হবে ‘ড্রোন শো’ এর মাধ্যমে। ড্রোন শো এর প্রথম ধাপে দেখানো হবে কীভাবে বাংলাদেশ জুলাই এ এসে পৌঁছালো। এই প্রতিবেদন লেখার পূর্ব রাত নয়টা পর্যন্ত নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।
Reporter Name 









