গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার এবং সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮.০৪ শতাংশ, যেখানে গত বছর ছিল ৮৩.৭৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কমেছে ৩৮,৮২৭ জন। ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল করেছে এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে।
ফল খারাপ হওয়ার মূলত তিনটি কারণ রয়েছে:
১. করোনাসহ নানা কারণে বিগত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ক্লাস করতে পারেনি।
২. প্রশ্নপত্র তুলনামূলক কঠিন ছিল, বিশেষ করে গণিতে।
৩. উত্তরপত্র মূল্যায়ন অন্যান্য বছরের তুলনায় কড়াকড়িভাবে করা হয়েছে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন, যার মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
এই প্রেক্ষাপটে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে। ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাকসুদ উদ্দিন বলেন, “প্রায় প্রতিবছরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন খালি থাকে। আবার কিছু কলেজে ভর্তির জন্য চাপ পড়ে। এবার পাসের হার কম হওয়ায় মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষভাবে আসন খালি থাকবে।” এ কারণে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে কেবল কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন আছে প্রায় ২৬ লাখ ৬৬ হাজার। পাস করা সব শিক্ষার্থী কলেজ বা মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ আসন খালি থেকে যাবে।
বোর্ডভিত্তিক আসনসংখ্যা:
-
ঢাকা: ৫ লাখ ৪০ হাজার+
-
কুমিল্লা: ২ লাখ ৬০ হাজার
-
রাজশাহী: ৩ লাখ ৮৬ হাজার
-
যশোর: ২ লাখ ২০ হাজার
-
চট্টগ্রাম: ১ লাখ ৭০ হাজার
-
বরিশাল: ১ লাখ ৭০ হাজার
-
সিলেট: ১ লাখ ৪১ হাজার
-
দিনাজপুর: ৩ লাখ ২৮ হাজার
-
ময়মনসিংহ: ১ লাখ ৩৫ হাজার
-
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৩ লাখ ২৮ হাজার
ফলে অনেক কলেজ ও মাদ্রাসা কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক শিক্ষার্থী পাবে না, যা বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এবারও আগের নিয়মেই অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়া চালু রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারে। এরপর মেধা, কোটা (যদি থাকে), ও পছন্দের ভিত্তিতে একটি কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের নিয়মেই ভর্তির প্রক্রিয়া চালু রাখার সম্ভাবনা বেশি এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
Reporter Name 









