ঢাকা 4:16 am, Sunday, 11 October 2026

নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দী দুই লাখ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:47:41 am, Saturday, 12 July 2025
  • 29 Time View

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে বৃষ্টি না থাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক সড়ক ও বাসাবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলা সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, সেনবাগসহ জেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, কলেজপাড়া, পূর্ব মাইজদী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, দরগাবাড়ি ও মাইজদী পৌর বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় এখনো সড়কে পানি জমে আছে। যদিও পানি কিছুটা কমেছে, তবুও জনদুর্ভোগ রয়ে গেছে।

পূর্ব মাইজদীর জমাদারবাড়ির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়ির কিছু ঘরে পানি ঢুকেছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হওয়ায় পানি অনেকটা কমেছে। তবে এখনো উঠান ও চলাচলের পথে প্রায় এক ফুট পানি রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অটোরিকশাচালক মো. রুবেল জানান, মাইজদীর হাকিম কোয়ার্টার সড়কটি গত পাঁচ দিন ধরে হাঁটুপানিতে ডুবে ছিল, ফলে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। আজ পানি কিছুটা কমায় যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু করেছেন, তবে সড়কটির অনেক অংশ এখনো ভাঙাচোরা এবং পানিতে ডুবে আছে, ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. আজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টি হয়নি এবং আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই, তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটায় হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় ৪৬ হাজার ৭০টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার। জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৪৬টি কাঁচাঘর জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Ashraf Faisal

পাঠক প্রিয়

নোয়াখালীতে এখনো পানিবন্দী দুই লাখ মানুষ

Update Time : 11:47:41 am, Saturday, 12 July 2025

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে বৃষ্টি না থাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক সড়ক ও বাসাবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলা সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, সেনবাগসহ জেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, কলেজপাড়া, পূর্ব মাইজদী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, দরগাবাড়ি ও মাইজদী পৌর বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় এখনো সড়কে পানি জমে আছে। যদিও পানি কিছুটা কমেছে, তবুও জনদুর্ভোগ রয়ে গেছে।

পূর্ব মাইজদীর জমাদারবাড়ির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়ির কিছু ঘরে পানি ঢুকেছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হওয়ায় পানি অনেকটা কমেছে। তবে এখনো উঠান ও চলাচলের পথে প্রায় এক ফুট পানি রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অটোরিকশাচালক মো. রুবেল জানান, মাইজদীর হাকিম কোয়ার্টার সড়কটি গত পাঁচ দিন ধরে হাঁটুপানিতে ডুবে ছিল, ফলে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। আজ পানি কিছুটা কমায় যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু করেছেন, তবে সড়কটির অনেক অংশ এখনো ভাঙাচোরা এবং পানিতে ডুবে আছে, ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. আজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টি হয়নি এবং আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই, তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটায় হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় ৪৬ হাজার ৭০টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার। জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৪৬টি কাঁচাঘর জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।