ঢাকা 4:57 am, Sunday, 11 October 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা বাংলাদেশের : প্রেস সচিব

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:17:09 pm, Tuesday, 8 July 2025
  • 19 Time View

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৫:

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বাংলাদেশি পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় শুল্ক আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন।

এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। তারা ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। বুধবার (৯ জুলাই) আরেক দফা নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘ঢাকা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তির প্রত্যাশা করছে, যা আমাদের বিশ্বাস, উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও রয়েছেন।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূসকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) গোলাম মোর্তোজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন, ৩৫ শতাংশ শুল্ক চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, আলোচনা চলছে। ৯ জুলাই পরবর্তী আলোচনার তারিখ। ভালো কিছুর জন্য বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আপনার বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আমরা আগামী বছরগুলোতে আপনার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আপনি যদি এখন পর্যন্ত বন্ধ রাখা আপনার বাণিজ্য বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করতে চান এবং শুল্ক, অশুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করেন, তবে এই চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করতে পারি।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ মোট ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্কহার নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব চিঠি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সামনে আরো কিছু দেশকে শুল্কবিষয়ক চিঠি পাঠানো হতে পারে। যার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররাও রয়েছেন।
চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, গত এপ্রিলে স্থগিত করা পাল্টা শুল্ক তিন সপ্তাহের মধ্যে এবং আগের চেয়েও বেশি হারে ফিরে আসবে।

আরো জানানো হয়, টোকিও ও সিউলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়াসহ ১৪ দেশের ওপর ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগস্টের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি নমনীয় হতে পারে।
গত ৩ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরে সেটি ৩ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হতো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Ashraf Faisal

পাঠক প্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা বাংলাদেশের : প্রেস সচিব

Update Time : 03:17:09 pm, Tuesday, 8 July 2025

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৫:

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বাংলাদেশি পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় শুল্ক আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন।

এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। তারা ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। বুধবার (৯ জুলাই) আরেক দফা নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘ঢাকা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তির প্রত্যাশা করছে, যা আমাদের বিশ্বাস, উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও রয়েছেন।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূসকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) গোলাম মোর্তোজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন, ৩৫ শতাংশ শুল্ক চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, আলোচনা চলছে। ৯ জুলাই পরবর্তী আলোচনার তারিখ। ভালো কিছুর জন্য বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আপনার বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আমরা আগামী বছরগুলোতে আপনার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আপনি যদি এখন পর্যন্ত বন্ধ রাখা আপনার বাণিজ্য বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করতে চান এবং শুল্ক, অশুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করেন, তবে এই চিঠির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করতে পারি।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ মোট ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্কহার নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব চিঠি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সামনে আরো কিছু দেশকে শুল্কবিষয়ক চিঠি পাঠানো হতে পারে। যার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররাও রয়েছেন।
চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, গত এপ্রিলে স্থগিত করা পাল্টা শুল্ক তিন সপ্তাহের মধ্যে এবং আগের চেয়েও বেশি হারে ফিরে আসবে।

আরো জানানো হয়, টোকিও ও সিউলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়াসহ ১৪ দেশের ওপর ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগস্টের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি নমনীয় হতে পারে।
গত ৩ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরে সেটি ৩ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হতো।