ঢাকা 5:25 am, Sunday, 11 October 2026

উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন জানুয়ারির প্রথমার্ধে

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:20:39 am, Thursday, 26 December 2024
  • 102 Time View

বিএনপি চেয়ারপারর্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা নিতে জানুয়ারির প্রথমার্ধে লন্ডন যাচ্ছেন।

আজ বুধবার বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস’কে বলেন , ‘মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দলীয় চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট দিন, তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মেডিকেলের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি বিমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাবেন। তার সঙ্গে চিকিৎসকের একটি দল, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও যাবেন। লন্ডন যাত্রার তারিখ ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যাবেন তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র যাবেন লিভার জটিলতার চিকিৎসার জন্য।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে পূর্ব বাল্টিমোরে বিশ্বখ্যাত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও নিয়েছেন তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে বেগম জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে দলের নেতা, চিকিৎসক, নার্সসহ ১৫ জনের একটি তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। তাদের সবার যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এই হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডস, প্রফেসর জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন ও প্রফেসর আবদুল হামিদ আহমেদ আব্দুর রব ঢাকা এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেন। তারা বিএনপি চেয়ারপার্সনের লিভারের রক্তনালীতে সফল অস্ত্রোপচার করেন।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে আইসিইউতে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তাকে দীর্ঘ সময়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের অক্টোবরে হাই কোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বিএনপি নেত্রীর।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। তখন থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

এরপর থেকে পরিবারের আবেদনে প্রতি ছয় মাস পরপর বিএনপি নেত্রীর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আসছিল তৎকালীন হাসিনা সরকার। প্রতিবারই তাকে দুটি শর্ত দেওয়া হচ্ছিল। তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

সাময়িক মুক্তির পর বিএনপি চেয়ারপারর্সনকে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের তরফ থেকে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হলেও ওই শর্তের যুক্তি দিয়েই বার বার তা প্রত্যাখ্যান করে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার।

গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরদিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাধীন থেকে সর্বশেষ ২১ আগস্ট গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি প্রধান।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগম খালেদা জিয়াকে হঠাৎ করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে ছয়দিন পর বাসায় ফেরেন তিনি।

সূত্র: বাসস

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পাঠক প্রিয়

উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন জানুয়ারির প্রথমার্ধে

Update Time : 12:20:39 am, Thursday, 26 December 2024

বিএনপি চেয়ারপারর্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা নিতে জানুয়ারির প্রথমার্ধে লন্ডন যাচ্ছেন।

আজ বুধবার বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস’কে বলেন , ‘মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দলীয় চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট দিন, তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মেডিকেলের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি বিমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাবেন। তার সঙ্গে চিকিৎসকের একটি দল, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও যাবেন। লন্ডন যাত্রার তারিখ ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যাবেন তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র যাবেন লিভার জটিলতার চিকিৎসার জন্য।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে পূর্ব বাল্টিমোরে বিশ্বখ্যাত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও নিয়েছেন তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে বেগম জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে দলের নেতা, চিকিৎসক, নার্সসহ ১৫ জনের একটি তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। তাদের সবার যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এই হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডস, প্রফেসর জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন ও প্রফেসর আবদুল হামিদ আহমেদ আব্দুর রব ঢাকা এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেন। তারা বিএনপি চেয়ারপার্সনের লিভারের রক্তনালীতে সফল অস্ত্রোপচার করেন।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে আইসিইউতে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তাকে দীর্ঘ সময়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের অক্টোবরে হাই কোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বিএনপি নেত্রীর।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। তখন থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

এরপর থেকে পরিবারের আবেদনে প্রতি ছয় মাস পরপর বিএনপি নেত্রীর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আসছিল তৎকালীন হাসিনা সরকার। প্রতিবারই তাকে দুটি শর্ত দেওয়া হচ্ছিল। তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

সাময়িক মুক্তির পর বিএনপি চেয়ারপারর্সনকে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের তরফ থেকে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হলেও ওই শর্তের যুক্তি দিয়েই বার বার তা প্রত্যাখ্যান করে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার।

গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরদিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাধীন থেকে সর্বশেষ ২১ আগস্ট গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি প্রধান।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগম খালেদা জিয়াকে হঠাৎ করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে ছয়দিন পর বাসায় ফেরেন তিনি।

সূত্র: বাসস